চিন্তাধারা এবং সঠিক উদ্যেগ

আমরা উন্নত রাষ্টের কথা বলি, কিন্তু উন্নত রাষ্টের মানুষগুলোর কাজের সাথে আমাদের কতটা মিল সেটা কি কখনো ভেবে দেখেছি??

চিন্তাধারা এবং সঠিক উদ্যেগ
উন্নত রাষ্টের মানুষের জীবনধারা ও আমাদের দেশের মানুষের জীবনধারা

শুনেছি উন্নত রাষ্টগুলোতে কোন কিছু নষ্ট হয়ে গেলে ফেলে দেওয়া হয়। আমার এক আত্বীয় দেশের বাহিরে ছিলেন সেও এই একই কথা আমাদের জানিয়েছিল। তাদের এসব জিনিসপত্র বা ইলেকট্রিকযন্ত্রগুলো মেরামত করার সময় নেই কিংবা সোকেসে তুলে রাখার প্রয়োজন নেই। হয়ত সেই জন্যই দেশগুলোর নামের আগে কোন দ্বিধা/সংকোচ ছাড়াই জোড় ভাবে আমরা সবাই বলি বা লিখি যে ”উন্নত দেশ”। কিন্তু পারিপার্শিক ভাবে আমরা বাঙ্গালিরা কি করি? একটু কিছু হয় নাকি অধৈর্য্য হয়ে যাই।

একটা যন্ত্র নষ্ট কিংবা সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে সেটাকে সেভাবেই বাড়িবুড়ি আর থাপ্পর দিয়ে ”কোনরকম” শব্দ টা দিয়ে ব্যবহার চালিয়ে যাই। তারপর যন্ত্রটা যখন পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে পড়ে তখন সেটার পিছনে দৌড়ানো শুরু করি। আর এই দৌড়ানোর সময়টা বেশ কিছুদিন হতে পারে। যেখানে কি’না তখন আমরা এক কথায় এটা বলি যে, ”এই জিনিস/যন্ত্রটা সেই কবে থেকেই নষ্ট, ঠিকঠাকভাবে কিছুই হতো না, আর এখন সব কাজ ফেলে এতটা সময় ধরে এটার পিছনেই দৌড়াচ্ছি মাথাটা একদম খারাপ হয়ে গেলো”। শুধু তাই না, তার এই খারাপ মাথাটার জন্য আশেপাশে এর ব্যাপক প্রভাব পরে। একদল মানুষ কষ্ট পায় আর তাদের কষ্ট পাওয়ার কারনে তাদের নিজের কাজেও তারা সক্রিয় থাকতে পারে না। আসলে আমি এখানে ”কিছু মানুষ” বলতেও সংকোচ বোধ করছি, বলতে ইচ্ছে হচ্ছে আমরা বাঙ্গালিরা সবাই এমনই। হয় বাতিল জিনিসপত্রের বা যন্ত্রের ঠিক হওয়ার পিছনে দৌড়ানি দিয়ে মাথা নষ্ট করে ফেলি, আর তারপর হয়ত সেটাকে বাকি দীর্ঘসময় শুধু শুধুই বয়ে নিয়ে বেড়াই।

এত কিছুর পরেও তাই মাঝে মাঝে নিজের দেশের নামের আগে “উন্নত” শব্দটা ব্যবহার করতে দ্বিধা/সংকোচ বোধ করি। তারপরেও কি আর করা !!! উন্নত শব্দটা ব্যবহার করতেই হয় হয়ত উন্নতির আশায়। এজন্য কথাই তো আছে, “আশায় বাঁচে চাঁষা”।

আসলেই ”চাষা-ই” আশাই বাঁচে উন্নত রাষ্টের উন্নত কেউ না। আসলে আমরা নিজেরা যখন উন্নত হতে পারবনা তখন দেশটাও উন্নত হবে কি করে?

যদি বলো নিজে নিজে উন্নত হতে সময় তো লাগবেই। তাহলে এটা জেনে রেখো দেশটাও উন্নত হতে সময় লাগবেই। এজন্য সদা সর্বদায় একটা চলিত কথা আছে, “প্রথমে নিজে ঠিক হও তারপর অন্যদের বলতে যেও”।

একটু গভীর ভাবে আমরা ভাবতে গেলে সব শব্দ আর বাক্যের পিছনে থাকা ব্যাখ্যাটার প্রকৃত অর্থ বোঝা যায়। তবে তুমি যদি শুধু বুঝে বসে থাকো তাহলে তোমার বোঝার কোন প্রয়োজন নেই। প্রকৃত সফল ব্যাক্তি তারাই যারা বোঝে এবং সেটাকে বোধগম্য করে কাজে লাগায়।