বাংলাদেশে ইন্টারনেটের অভিযাত্রা: ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত পথচলা
ইন্টারনেটের সূচনা থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তর – এক নজরে ২৯ বছরের ইতিহাস

বাংলাদেশে ইন্টারনেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। এই সময়ের মধ্যে দেশটি এনালগ সিস্টেম থেকে শুরু করে ৫জি যুগে প্রবেশ করেছে। এই দীর্ঘ পথে এসেছে নানা পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনে ইন্টারনেটের প্রভাবের এক বিশাল পরিবর্তন। চলুন জেনে নিই এই সময়কালের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো।
১. ১৯৯৬ – ইন্টারনেটের সূচনা
-
১৯৯৬ সালের ৪ জুন বাংলাদেশে সরকারিভাবে ইন্টারনেট চালু হয় BTCL (সাবেক BTTB) এর মাধ্যমে।
-
Dial-up প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের যাত্রা শুরু।
-
শুরুতে স্পিড ছিল অত্যন্ত ধীর (২৮.৮–৫৬ কেবিপিএস)।
২. ১৯৯৮–২০০৫: বেসরকারি আইএসপি ও সাইবার ক্যাফের উত্থান
-
বেশ কিছু বেসরকারি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) বাজারে আসে।
-
সাইবার ক্যাফে জনপ্রিয়তা পায়, মূলত শহরাঞ্চলে।
-
ইমেইল ও চ্যাটিং জনপ্রিয় হয় তরুণদের মধ্যে।
৩. ২০০৬ – SEA-ME-WE 4 সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্তি
-
বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE 4) নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়।
-
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি ও মানের উন্নয়ন ঘটে।
-
দাম কিছুটা কমে, ঘরে ঘরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ছড়াতে থাকে।
৪. ২০০৮–২০১২: থ্রিজি আসার প্রস্তুতি
-
মোবাইল ইন্টারনেট চালু হয় (EDGE/GPRS)।
-
গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এসব অপারেটর মোবাইলে ইন্টারনেট সেবা দিতে শুরু করে।
-
Facebook, YouTube, Blogging জনপ্রিয়তা পায়।
৫. ২০১৩ – থ্রিজি যুগে প্রবেশ
-
সরকার ২০১৩ সালে ৩জি লাইসেন্স দেয় মোবাইল অপারেটরদের।
-
ইন্টারনেট গতি বাড়ে, ভিডিও স্ট্রিমিং ও অনলাইন ক্লাস সহজ হয়।
-
মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট পৌঁছে যায়।
৬. ২০১৮ – ফোরজি চালু
-
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে ৪জি ইন্টারনেট সেবা চালু হয়।
-
ভিডিও কনফারেন্স, অনলাইন ব্যবসা, ডিজিটাল মার্কেটিং আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
-
সরকারের “ডিজিটাল বাংলাদেশ” ভিশনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল হয়।
৭. ২০২০ – করোনা মহামারি ও ইন্টারনেট বিপ্লব
-
অনলাইন শিক্ষা, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, টেলিমেডিসিন জনপ্রিয় হয়।
-
ই-কমার্স ও অনলাইন পেমেন্ট ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় (bKash, Nagad, Rocket ইত্যাদি)।
-
Zoom, Google Meet, Facebook Live ব্যবহারে বুম ঘটে।
৮. ২০২৩ – দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE 5)
-
দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
-
আরও ভালো ব্যান্ডউইথ ও ইন্টারনেট স্পিড নিশ্চিত হয়।
-
ক্লাউড সেবা ও আইটি সার্ভিস আউটসোর্সিং উন্নত হয়।
৯. ২০২৪–২০২৫: ৫জি ট্রায়াল ও আগামীর পরিকল্পনা
-
২০২৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ৫জি ইন্টারনেট চালু করে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি ও কিছু মোবাইল অপারেটর।
-
২০২৫ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ৫জি চালুর লক্ষ্যমাত্রা।
-
স্মার্ট সিটি, IoT (Internet of Things), স্মার্ট কৃষি, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৫জি ব্যবহারের পরিকল্পনা।
১৯৯৬ সালে ডায়াল-আপ ইন্টারনেট থেকে শুরু করে আজকের ৫জি যুগে প্রবেশ—বাংলাদেশের জন্য এটি এক বিশাল যাত্রা। এই প্রযুক্তির উন্নয়ন শুধু যোগাযোগ নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা এবং প্রশাসনসহ সব খাতেই আমূল পরিবর্তন এনেছে। ভবিষ্যত আরও স্মার্ট, আরও সংযুক্ত। #বাংলাদেশেইন্টারনেট


